

ফারাহ মাধ্যমিক বিদ্যালয় , এখানে শিক্ষক-শিক্ষার্থীর অনুপাত প্রায় ১ঃ১০ , যা শিক্ষাদান প্রক্রিয়ায় একটি আদর্শ পরিবেশ সৃষ্টি করেছে। প্রতিটি শিক্ষার্থীকে ব্যক্তিগতভাবে যত্ন নেওয়ার সুযোগ তৈরি হওয়ায় তাদের শিক্ষা, দীক্ষা ও মানসিক বিকাশে গুণগত পরিবর্তন ঘটছে। একইসাথে শিক্ষার্থী ও কর্মচারীর অনুপাত ৩৭:১, যা প্রতিষ্ঠানের দৈনন্দিন কার্যক্রমকে সুশৃঙ্খলভাবে পরিচালনা করতে সহায়ক। বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের গড় বয়স ৫২ বছর—যা তাঁদের অভিজ্ঞতার গভীরতা ও শিক্ষার্থীদের প্রতি দীর্ঘদিনের নিবেদনকে প্রতিফলিত করে। তাঁদের প্রজ্ঞা, আন্তরিকতা এবং শিক্ষাদর্শন শিক্ষার্থীদের জ্ঞানার্জন, সৃজনশীলতা ও চরিত্র গঠনে একটি মজবুত ভিত্তি স্থাপন করছে।
বিদ্যালয়টি যশোর শিক্ষা বোর্ডের অধীনে পরিচালিত হয়ে জাতীয় শিক্ষাব্যবস্থার মানদণ্ড অনুসারে শিক্ষা প্রদান করছে। এখানে মানবিক, বিজ্ঞান ও ব্যবসায় শিক্ষা—এই তিনটি বিভাগে পাঠদান করা হয়, যা শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ শিক্ষাগত ও পেশাগত পথচলায় বিস্তৃত সুযোগ সৃষ্টি করে। ছেলে-মেয়ে উভয়ের জন্য সমন্বিত শিক্ষা কার্যক্রম চালু থাকায় প্রতিষ্ঠানটি হয়ে উঠেছে একটি প্রগতিশীল ও অন্তর্ভুক্তিমূলক শিক্ষাঙ্গন। এছাড়া সমস্ত ক্লাস অনুষ্ঠিত হয় দিবাকালীন শিফটে, যা শিক্ষার্থীদের নিয়মিত পড়াশোনা, সহপাঠ কার্যক্রম ও বিশ্রামের মধ্যে একটি সুষম সময় ভাগ করে নিতে সহায়তা করে।
শিক্ষার্থীদের জন্য পর্যাপ্ত শিক্ষাভবনের ব্যবস্থাও রয়েছে। বর্তমানে বিদ্যালয়ে মোট তিনটি একাডেমিক ভবন রয়েছে, যার মধ্যে একটি নতুন একাডেমিক ভবন সম্প্রতি প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। আধুনিক সুযোগ-সুবিধাসম্পন্ন এই নতুন ভবন বিদ্যালয়ের শিক্ষা পরিবেশকে করেছে আরও আকর্ষণীয় ও অনুপ্রেরণামূলক। এর ফলে শিক্ষার্থীরা একটি উন্নত পরিকাঠামোর মধ্যে শিক্ষা গ্রহণের সুযোগ পাচ্ছে, যা তাদের পড়াশোনায় আগ্রহ ও মনোযোগ বৃদ্ধি করছে।
ব্যবস্থাপনায় রয়েছে একটি নিবেদিতপ্রাণ ও সক্রিয় ম্যানেজিং কমিটি, যারা কেবল প্রতিষ্ঠানটির নীতি নির্ধারণেই নয় বরং সার্বিক অগ্রগতি ও উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। তাঁদের দূরদর্শী পরিকল্পনা এবং দক্ষ তত্ত্বাবধান বিদ্যালয়টির একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রমকে করেছে আরও সুশৃঙ্খল, স্বচ্ছ ও ফলপ্রসূ।
প্রকৃতির শান্ত পরিবেশে সমতল ভূমির ওপর অবস্থিত এই বিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের জন্য একটি নিরাপদ, অনুকূল ও শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করেছে। এখানে কেবল পাঠ্যপুস্তকভিত্তিক জ্ঞান নয়, বরং জীবন গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় মূল্যবোধ, নৈতিক শিক্ষা এবং সামাজিক দায়িত্ববোধের বিকাশেও সমান গুরুত্ব দেওয়া হয়। এর ফলে শিক্ষার্থীরা কেবল দক্ষ নাগরিক হিসেবেই নয়, বরং দায়িত্বশীল মানুষ হিসেবেও গড়ে উঠছে, যা এই প্রতিষ্ঠানের প্রকৃত সফলতার প্রতিফলন।

ফারাহ মাধ্যমিক বিদ্যালয় ধামালিয়া অঞ্চলের অন্যতম প্রাচীন ও স্বনামধন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, যা ১৯৮৪ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। প্রতিষ্ঠার পর থেকে এটি স্থানীয় শিক্ষার্থীদের জ্ঞানার্জনের প্রধান কেন্দ্র হিসেবে ভূমিকা রেখে আসছে। বিদ্যালয়টি মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর কর্তৃক অনুমোদিত এবং EIIN: 116995 দ্বারা স্বীকৃত। আনুষ্ঠানিকভাবে এটি ০১ জানুয়ারি, ২০০২ সালে সরকারিভাবে স্বীকৃতি লাভ করে। বর্তমানে এটি সরকারি মাসিক বেতন আদেশ (MPO) ভুক্ত প্রতিষ্ঠান হিসেবে শিক্ষক ও কর্মচারীদের সরকারি বেতন-ভাতার সুবিধা নিশ্চিত করছে।
বিদ্যালয়টি যশোর শিক্ষা বোর্ড এর অধীনে পরিচালিত হয়ে থাকে এবং নির্ধারিত পাঠ্যক্রম অনুসারে শিক্ষা প্রদান করে। এখানে মানবিক, বিজ্ঞান ও ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগ চালু রয়েছে, যা শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন একাডেমিক ধারা ও পেশাগত অগ্রগতির সুযোগ সৃষ্টি করছে। এটি একটি সমন্বিত (Combined) শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, যেখানে ছেলে-মেয়ে উভয়ের জন্য সমানভাবে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালিত হয়। বর্তমানে বিদ্যালয়ে দিবাকালীন শিফটে (Day Shift) শ্রেণি কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়।
প্রতিষ্ঠানটি একটি সক্রিয় Managing Committee দ্বারা পরিচালিত হয়, যারা নীতি-নির্ধারণ, প্রশাসনিক কার্যক্রম এবং শিক্ষার মানোন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। বিদ্যালয়টির অবস্থান ধামালিয়ার গ্রামীণ প্রেক্ষাপটে হলেও জমির প্রকৃতি সমতল ভূমি (Plain Land) হওয়ায় এটি একটি অনুকূল ও সহজলভ্য পরিবেশে অবস্থিত।
প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ড. শামসুল করিম বাকার, একজন দূরদর্শী শিক্ষানুরাগী ও সমাজহিতৈষী ব্যক্তিত্ব। শিক্ষার আলো গ্রামীণ জনপদে ছড়িয়ে দেওয়ার প্রত্যয়ে তিনি এ বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেন। তাঁর অক্লান্ত পরিশ্রম, দৃঢ় নেতৃত্ব এবং শিক্ষা বিস্তারে অঙ্গীকারবদ্ধ মনোভাবের কারণে বিদ্যালয়টি স্বল্প সময়ে স্থানীয় জনগণের আস্থা ও ভালোবাসা অর্জন করে। শিক্ষার মানোন্নয়ন, শৃঙ্খলা রক্ষা, শিক্ষক নিয়োগে স্বচ্ছতা এবং আধুনিক শিক্ষাপদ্ধতি প্রবর্তনে তিনি নিরলসভাবে কাজ করেছেন।
তাঁর সৃজনশীল দিকনির্দেশনা ও নিরন্তর তত্ত্বাবধানে ফারাহ মাধ্যমিক বিদ্যালয় ধামালিয়া অঞ্চলসহ আশপাশের এলাকার অন্যতম সেরা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়। বিদ্যালয় থেকে উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীরা কেবল স্থানীয় পর্যায়েই নয়, বরং জাতীয় ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও তাদের মেধা, দক্ষতা ও নেতৃত্বের স্বাক্ষর রেখেছে। অসংখ্য প্রাক্তন শিক্ষার্থী আজ দেশের বিভিন্ন খ্যাতনামা বিশ্ববিদ্যালয়, সরকারি-বেসরকারি উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান, গবেষণা সংস্থা, প্রশাসনিক বিভাগ এবং পেশাজীবী ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
ফলস্বরূপ, বিদ্যালয়টি কেবল একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবেই নয়, বরং একটি আদর্শ গড়ার কেন্দ্র হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে। শিক্ষার্থীদের চরিত্র গঠন, নেতৃত্ব বিকাশ এবং সামাজিক দায়িত্ববোধ জাগ্রত করার ক্ষেত্রে বিদ্যালয়টির অবদান অনন্য। এভাবেই ড. শামসুল করিম বাকারের স্বপ্ন ও দৃষ্টিভঙ্গি আজ বাস্তবরূপ পেয়েছে, আর তাঁর ঐতিহ্যবাহী অবদান ফারাহ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।
Copyright © 2026 | ফারাহ মাধ্যমিক বিদ্যালয়
Development and Maintenance by BICTSOFT